আবরার হত্যা মামলার রায় ২৮ নভেম্বর

12

দুই বছর আগে আলোচিত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় আগামী ২৮ নভেম্বর ঘোষণা করা হবে।

রোববার (১৪ নভেম্বর) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য এই দিন ধার্য করেছেন।

আবরার বুয়েটের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর শেরেবাংলা হলের গেস্টরুমে আসামিরা সভা করে আবরারকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। পরদিন রাতে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

আবরার হত্যার ঘটনায় তার বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর রাজধানীর চকবাজার থানায় মামলাটি করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ১৩ নভেম্বর আদালতে মামলাটির অভিযোগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এতে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এরও আগে গত বছরের ২১ জানুয়ারি এ মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেন আদালত। গত বছরের ১৮ মার্চ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ এ মামলাটি বদলির আদেশ দেন। এরপর গত ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ২৫ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

মামলার চার্জশিটে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শিবির সন্দেহে আবরারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে নির্মমভাবে পিটিয়ে তাকে হত্যা করে।

চার্জশিটে আবরারের রুমমেট মিজানুর রহমান ওরফে মিজানকে হত্যার মূল হোতা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চার্জশিটে অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে এজাহারভুক্ত ১৯ জন এবং তদন্তে আগত ছয়জন রয়েছে। এছাড়া অভিযুক্তদের মধ্যে আটজন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এ মামলায় তিন আসামি পলাতক রয়েছে। এরা হল- বুয়েট শিক্ষার্থী মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মোস্তবা রাফিদ। বাকিরা কারাগারে।

বিচারের অপেক্ষায় পরিবার
খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেখে যেতে চান নিহত আবরারের ৯০ বছর বয়সি দাদা আব্দুল গফুরসহ পরিবারের সদস্যরা। আর আবারের ব্যবহৃত জামা-কাপড়, বইপত্র হাতড়ে প্রিয় সন্তানকে খুঁজে ফেরেন মা রোকেয়া খাতুন। বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া গ্রামের বরকত উল্লাহ ও রোকেয়া দম্পতির বড় সন্তান।